site-logo

www.bdedition.com

(অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল)

জাতীয়
তফসিল ঘোষণার আগেই সরকার থেকে সরে যাব: উপদেষ্টা আসিফ
প্রকাশিত: 14 আগস্ট 2025, 03:44 রাত
তফসিল ঘোষণার আগেই সরকার থেকে সরে যাব: উপদেষ্টা আসিফ
news-banner

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সরকার থেকে সরে যাব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

মঙ্গলবার নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ঠিকানা-এর এক টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন—২০১৮ সাল থেকে আমি রাজনীতিতে যুক্ত। রাজনীতিতে আছে, এমন কারো নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা উচিত না। তাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সরকার থেকে সরে যাব।

এরপর রাজনীতিতে যুক্ত হলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা, জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেবেন কিনা এসব বিষয় স্পষ্ট করেননি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ আসিফ মাহমুদ।

এই টকশোতে একক অতিথি হিসেবে ছিলেন জুলাই আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে থাকা এই উপদেষ্টা। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন ও এক বছরের কার্যক্রম, এই সময়ের সরকার ও রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা, জুলাই আন্দোলনের মিত্র দলগুলোর মধ্যে বিভাজন, আগামী জাতীয় নির্বাচন, নিজের রাজনৈতিক গন্তব্য, মুরাদনগরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী– এমন নানা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আসিফ মাহমুদ। পতাকাবাহী গাড়ি নয়, ক্ষমতার মোহ নয় বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে সোচ্চার থাকা নিশ্চিত করতেই সরকারে আছেন, এমন দাবিও করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন —এখনো কিছু কাজ বাকি আছে। এরমধ্যে বড় মাইলফলক জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়া সম্ভব হলো। এখনো জুলাই সনদ বাকি আছে। স্থানীয় সরকারের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় আছে। এসব দায়িত্ব শেষ করে যেতে না পারলে ঐতিহাসিক দায় থেকে যাবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রথমে মানতে চাননি, মাস কয়েক আগে এমন একটি ভিডিও বক্তব্য দিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন—এটা সরকার গঠনের আগের ঘটনা। তখন বঙ্গভবনে একটি বৈঠক হয়েছিল। যেখানে সরকার প্রধান হিসেবে ড. ইউনূসের নাম প্রস্তাব করা হলে সেনাপ্রধান এর বিরুদ্ধে মত দেন। তার যুক্তি ছিল, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাকে পছন্দ করে না। এক পর্যায়ে তিনি মেনে নিলেও ‘বুকে পাথরচাপা দেওয়া’ শব্দ ব্যবহার করেন। ভিডিওর বক্তব্যে সেখানে থেকে কোট করা হয়।

তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের বা আমার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। ৫ আগস্টের পর বা গণঅভ্যুত্থানের আগে সেনাবাহিনীর যে অবদান তা আমরা স্বীকার করি। তবে সেনাপ্রধানের সঙ্গে দ্বিমত শুধু আওয়ামী লীগ প্রশ্নে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা দিকে নানা শক্তি সক্রিয়, সেই ইঙ্গিত করে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, একটি মহল জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আনার তোড়জোড় করছে। এই দলটিকে প্রধান বিরোধীদল হিসেবে সামনে আনতে চায় তারা। আওয়ামী লীগের যেসব নেতার ইমেজ ভালো, তাদেরও জাতীয় পার্টির (জাপা) হয়ে নির্বাচনে নিয়ে আসার পাঁয়তারা চলছে।

ড. ইউনূস সরকারের ভেতরও সরকার আছে। গত কয়েক মাসে বার বার আলোচিত হয়েছে এই প্রসঙ্গ। তবে সরকারের ভেতর কেবল একটি নয়, একাধিক সরকার আছে বলে মনে করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর সামরিক বাহিনী ক্ষমতার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি আছে। একেকজন উপদেষ্টা একেক জায়গা থেকে এসেছেন। এসব কারণে ক্ষমতার একক কোনো কেন্দ্র নেই।

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আরো বলেন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এর দায়টা পড়ছে আমার ওপর। অথচ শুধু আমি না, আমাদের সরকারের ইচ্ছে থাকলেও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজন করতে পারছি না। সব দল রাজি থাকলেও বিএনপি ও তাদের সহযোগী কিছু দল মূলত এই নির্বাচনে রাজি হচ্ছে না।