site-logo

www.bdedition.com

(অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল)

জাতীয়
সাঈমা ওয়াজেদ পুতুলকে ছুটিতে পাঠাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
প্রকাশিত: 12 জুলাই 2025, 04:16 দুপুর
সাঈমা ওয়াজেদ পুতুলকে ছুটিতে পাঠাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
news-banner

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সাঈমা ওয়াজেদ পুতুলকে হঠাৎ করে শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ডব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস সংস্থার অভ্যন্তরীণ এক ইমেইলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংস্থাটিতে প্রথমবারের মতো একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যা নজিরবিহীন।

তবে বিষয়টি যে পূর্ব পরিকল্পিত ছিল, তার ইঙ্গিত মিলেছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর গত মার্চে দায়ের করা মামলার মাধ্যমে। সেই মামলায় সাঈমার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়—প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।

ডব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলে জানান, ১১ জুলাই থেকে সাঈমা ছুটিতে থাকবেন। তার অনুপস্থিতিতে সহকারী মহাপরিচালক ড. ক্যাথারিনা বেহম ‘কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বেহম আগামী ১৫ জুলাই নয়াদিল্লির আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগ দেবেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সাঈমা ডব্লিউএইচও-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই অভিযোগ ওঠে—তার নিয়োগে প্রভাব ফেলেছেন তার মা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুদক জানায়, সাঈমা ওয়াজেদ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুয়া তথ্য দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৮ ধারা (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি) এবং ৪৭১ ধারা (জাল দলিল ব্যবহার) অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-তে অনারারি পদে কর্মরত ছিলেন বলে দাবি করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে। এই ভুয়া তথ্য তিনি ডব্লিউএইচও-তে নিয়োগের সময় ব্যবহার করেন।

দুদকের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, সাঈমা তার সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রধান থাকাকালে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন, যা তিনি প্রভাব খাটিয়ে আদায় করেন। তবে এই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে—সে বিষয়ে মামলায় বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও যে ধারাগুলোতে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো হলো—বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা (প্রতারণা ও অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পত্তি গ্রহণ) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা।

এই মামলার কারণে বর্তমানে সাঈমা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে স্বাভাবিকভাবে ভ্রমণ করতে পারছেন না। বাংলাদেশে ফিরলে তার গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে তার গতিবিধি সীমিত হয়ে পড়েছে।