
ইসরাইলের অবরোধের ফলে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা তীব্র অপুষ্টির সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে, বিশেষ করে শিশুরা অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। গাজার দক্ষিণে খান ইউনিসের একটি শিশু অপুষ্টিতে মারা গেছে। উত্তরে ৪০ দিন বয়সী আরো একটি শিশু অপুষ্টির কারণে মারা গেছে।
ইসরাইলের অব্যাহত অবরোধের কারণে গাজায় ক্ষুধায় মারা যাওয়ার ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুর্ভিক্ষে সংকট আরো খারাপ হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, শুধুমাত্র রোববারেই অপুষ্টিতে কমপক্ষে ১৯ জন মারা গেছেন।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলছে, গাজার ৯০ হাজার নারী ও শিশুর অপুষ্টির জন্য জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।
গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালে তার ১৪ বছর বয়সী ছেলের বিছানার পাশে বসে থাকা অবস্থায় উম্মে মুসাব আল দিবস কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ‘আমার ছেলের ওজন এখন ১০ কেজিরও কম। আগে তার ওজন ছিল ৪০ কেজি। সে আমাকে ও তার বোনদের কাজে সাহায্য করত।
গাজা উপত্যকার বৃহত্তম হাসপাতাল আল-শিফায় সম্প্রতি অপুষ্টির ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসা সরবরাহের তীব্র ঘাটতির কারণে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান মোয়াতাজ হারার আল জাজিরাকে বলেন, ‘সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বেশিভাগ রোগী আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে না, বরং তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন। এমনকি আমাদের কিছু চিকিৎসাকর্মীও খাবারের অভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি গুরুতর, তবে এটি নতুন নয়। কেবল সংখ্যাটি দ্রুত বাড়ছে।’
ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভোগা শিশু হুসামের মা সাহায্যের জন্য মরিয়া হয়ে আল-শিফায় নিয়ে আসেন। ডাক্তাররা তার অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বলে জানান।
হুসামের মা বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতির কারণে শিশুখাদ্য নেই, খাবার নেই, পান করার মতো কিছুই নেই। এই দুর্ভিক্ষে আমি আমার সন্তানের খাদ্য ঘাটতি পূরণ করতে পারছি না। আমরা শুক্রবার ভর্তি হয়েছি এবং তারপর থেকে আমার ছেলে আইভি তরল খেয়ে বেঁচে আছে। সে হাঁটতের পারছে না।’
সূত্র : আল জাজিরা