
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমাবেশ ও গাড়িবহরে হামলার জেরে সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গুলির ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কারফিউ জারি করেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির পর সমাবেশস্থল থেকে ফেরার পথে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা হয়। দলটি অভিযোগ করেছে, ‘আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা জঙ্গি কায়দায়’ এ হামলা চালিয়েছে।
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে জেলা প্রশাসন প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। শহরে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবি।
এনসিপি দাবি করেছে, তারা হামলার শিকার হয়ে একপর্যায়ে গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এরপর সেনাবাহিনীর পাহারায় শহর ত্যাগ করেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা।
এনসিপি ও বিভিন্ন সূত্র বলছে, হামলার সময় ককটেল বিস্ফোরণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছোড়ে।
গোপালগঞ্জ সদর ইউএনও এবং পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ইউএনও রকিবুল হাসান বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়। আমরাও হামলার শিকার হই।’
এইদিকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে অন্তত চারটি মরদেহ আনা হয়েছে বলে জানান তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস। নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করে বৃহস্পতিবার সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। এক বিবৃতিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশকে অস্থিতিশীল করতেই হামলা চালিয়েছে।’ জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় বিএনপি।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, সহিংসতায় জড়িত কাউকে বিনা বিচারে ছেড়ে দেওয়া হবে না। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করছি। প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
বর্তমানে গোপালগঞ্জজুড়ে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল চলছে। শহরের চেকপোস্টগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা নজরদারি।