এককথায়—এত বিশাল, এত সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সমাবেশ শেষ কবে দেখেছি মনে করতে পারছি না। সংখ্যাটা আমার জানা নেই, তবে ১৫ লাখের বেশিই হবে অনায়াসে। বিস্ময়করভাবে এত লাখ লোক হেঁটে, বাসে, ট্রেনে করে এসেছে, কিন্তু কোথাও কোনও গণ্ডগোল, বিশৃঙ্খলা বা হট্টগোল দেখা যায়নি।
মানুষ এসেছে মনের টানে, ভাড়ায় নয়
সবচেয়ে বড় ব্যাপার—কাউকে ভাড়া করে আনতে হয়নি। সবাই এসেছে নিজেদের আগ্রহে, মনের আহ্বানে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য কম, তাদের জন্য ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করেছে জামায়াত, এমনকি ভাড়াও পরিশোধ করেছে দলটি। এটি নিঃসন্দেহে পজিটিভ রাজনীতির একটি দুর্দান্ত দৃষ্টান্ত।
আমিরের দৃঢ়তা ও অঙ্গীকার
বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। দুইবার মঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়েও, নিজের মনের জোরে উঠে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শেষ করেছেন। লাখো মানুষের সামনে তিনি বলেন—
-
নেতারা ট্যাক্সবিহীন গাড়ি নেবেন না
-
কোনো দুর্নীতিতে জড়াবেন না
-
চাঁদাবাজিও করবেন না
-
সব আয়ব্যয়ের হিসাব জনগণকে জানানো হবে
এত লক্ষ মানুষের সামনে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া সাহসিকতার ব্যাপার। আশাকরি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও এমন ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দেবে, যার মূল ফোকাস হবে একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
জনপ্রিয়তায় পরিবর্তনের ধারা
গত এক বছরে আমার পর্যবেক্ষণ বলে—জামায়াতে ইসলামী দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপি ও এনসিপির জনপ্রিয়তা কিছুটা কমছে বিভিন্ন ইস্যুতে।
একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য
এই চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ আয়োজনের জন্য জামায়াতে ইসলামীর একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পজিটিভ, নীতি-ভিত্তিক ও সংগঠিত আয়োজনের গুরুত্ব অনেক। আশাকরি এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতের রাজনীতিতে উদাহরণ হয়ে থাকবে।