খুলনায় শুভ হত্যার ১৫ বছর পর ২ আসামির যাবজ্জীবন

, প্রকাশ:15 জুলাই 2025, 03:11 দুপুর
news-banner

খুলনায় কিশোর ইয়াছিন ওরফে শুভ হত্যার দায়ে ১৫ বছর পর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ ক্ষতিপূরণ বাবদ নিহতের পরিবারকে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।    



অপর ৩ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ হোসেন হায়দার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আাদলতের বেঞ্চ সহকারী গনেশ কুমার দাস।



সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খালিশপুরের রায়ের মহল উত্তরপাড়ার বাসিন্দা শেখ শামসুর রহমানের ছেলে ইসরাফিল এবং সোনাডাঙ্গা থানার আন্দিরঘাট এলাকার বাসিন্দা শামসু শেখের ছেলে মিঠু।

এছাড়া এ মামলায় খালাস পেয়েছেন রায়ের মহল এলাকার বাসিন্দা আ. ছাত্তার মুন্সির ছেলে মো. আরেফিন মুন্সি এবং একই এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মাদ নুরুর ছেলে আবুল কলাম আজাদ ওরফে ডিবি কালাম ও আ. ওহাব শেখের ছেলে মিরাজ।


এজাহারের সূত্রে জানা গেছ, খালিশপুরের রায়েরমহল উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ শামসুর রহমানের বাড়িতে মাসিক এক হাজার টাকা চুক্তিতে কাজ করতো ইয়াছিন ওরফে শুভ। ওই বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়ে শুভ ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারি বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে সে তার চাচা মো. কাওছার শেখের বাড়িতে চলে যায়। রাতে সেখানে খেয়ে ঘুমিয়ে থাকে।

পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে চাচা বাড়ি থেকে বের হলে আন্দিরঘাটস্থ শামসুল হকের ছেলে মিঠু ভ্যান চুরি করার অপরাধে চড়-থাপ্পড় মেরে শুভকে আটকিয়ে রেখে মোবাইল করে ইসরাফিলকে বয়রায় আসতে বলে। ইসরাফিল এবং কালাম শুভকে মারধর করে মোটরসাইকেলযোগে ডুমুরিয়ায় ঘেরের দিকে নিয়ে যায়। শুভর মা জানতে পারেন তার ছেলেকে মোটরসাইকেলযোগে ইসরাফিল এবং কালাম ধরে নিয়ে গেছে।

ঘেরে নিয়ে গিয়ে শুভর ভ্রু, মাথার চুল এবং গোফ কেটে দেয় ইসরাফিল। পরে সেখান থেকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে শেকল দিয়ে খেজুর গাছে সাথে শুভকে বেঁধে রাখা হয়। শীতের রাতে বাইরে বেঁধে রাখার কারণে শুভ অসুস্থ হয়ে পড়ে। শুভর মাকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলে ইসরাফিল। শুভর মা নিলুফার কাছে ২০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে শুভর মৃত্যু হয়। এরপর তার লাশ খালিশপুরের রায়েরমহল এলাকার ব্যাংক কলোনীতে মামার বাড়িতে নেওয়া হয়।

২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনায় নিহত শুভর চাচা বাদী হয়ে খালিশপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ৪ জনকে আসামি করা হয়। একই বছরের ৯ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা খালিশপুর থানার এসআই আলতাফ হোসেন ৫ জনকে আসামি করে আদলতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ ঘটনার ১৫ বছর পর আজ রায় ঘোষণা করা হল। 

মুল্যবান মন্তব্য করুন